১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ - ০২:২৫
হযরত ইমাম আসকারির শোকাবহ শাহাদাত

ইমামের মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত হলে সমগ্র সামাররা শোকাহত হয়ে পড়ে। সামাররার সর্বত্র উচ্চ স্বরে ক্রন্দন ও বিলাপ ধ্বনি উচ্চকিত হতে থাকে। বাজার ও দোকান পাট সমূহ বন্ধ হয়ে যায়।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা):

অনুবাদ ও সংগ্রহ : মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

৮ রবীউল আউয়াল মহানবীর (সাঃ) পবিত্র আহলুল বাইতের (আ) বারো মাসূম ইমামের একাদশ মাসূম ইমাম হযরত হাসান আল-আসকারীর (আ) শাহাদাত দিবস । তিনি ২৩১ বা ২৩২ হিজরীর ৪, ৮ বা ১০ রবীউস সানী জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আহলুল বাইতের (আ) দশম মাসূম ইমাম হযরত আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাদী আন-নাকী (আ) এবং তাঁর মায়ের নাম হুদাইস বা সালীল বা কোনো কোনো আলেমের মতে সূসান এবং  তাঁকে জাদ্দাহ্ (পিতামহী) বলা হয় এ কারণে যে তিনি আহলুল বাইতের (আ.) বারো মাসূম ইমামের সর্বশেষ অর্থাৎ দ্বাদশ মাসূম ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান  আল-মাহদীর (আ.) পিতামহী (দাদী) । এই মহিয়সী নারী [ইমাম হাসান আল-আসরীর (আ.) মা] অত্যান্ত সৎকর্মশীল ও সুমহান ইসলামী চিন্তাভাবনার অধিকারী মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর সুউচ্চ ফযীলত ও মর্যাদার জন্য ব্যস এতটুকুই যথেষ্ট যে ইমাম হাসান আল -আসকারীর (আ.) শাহাদাতের পর তিনি [ইমাম হাসান আল -আসকারীর (আ.) মা] ছিলেন ঐ ক্রান্তিকালে ও শ্বাসরুদ্ধকর জটিল কঠিন পরিস্থিতিতে আহলুল বাইতের (আ) অনুসারীদের আশ্রয়স্থল। যেহেতু আব্বাসীয় খলিফার নির্দেশে একাদশ ইমামকে (আ.) সামাররাহর আসকার (সেনানিবাস) এলাকায় কঠোর প্রহরাধীনে অন্তরীন করে রাখা হয়েছিল সেহেতু তাঁকে তাঁর পিতার মতো আসকারী বলা হয় । তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ উপাধি গুলোর মধ্যে রয়েছে নাক্বী ও যাকী এবং কুনিয়াহ (ডাক নাম) আবূ মুহাম্মদ। তিনি ২২ বছর বয়সে পিতা দশম মাসূম ইমাম আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাদীর (আ.) শাহাদাতের পর ইমামতে অধিষ্ঠিত হন । তাঁর ইমামত কাল ছিল ৬ বছর এবং  শাহাদাত বরণ কালে তার বয়স ছিল ২৮ বছর । আব্বাসীয় খলিফা মু'তামাদ্ সবসময় হযরত ইমাম হাসান আল-আসকরীর (আ.) জনপ্রিয়তা ও সমাজে তাঁর প্রভাবের কারণে ভীত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকত এবং যখন সে দেখতে পেল যে ইমামের প্রতি জনগণের দৃষ্টি ও ভক্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং একাদশ ইমামকে কারাগারে অন্তরীণ করে রাখার প্রভাব উল্টো ও বিপরীত ফল দিতে পারে তখন সে একাদশ ইমামকে (আ.) গোপনে বিষ প্রয়োগ করলে ইমাম হাসান আল -আসকারী ২৬০ হিজরীর ৮ রবীউল আউয়াল শাহাদাত বরণ করেন। ইমামের মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত হলে সমগ্র সামাররা শোকাহত হয়ে পড়ে। সামাররার সর্বত্র উচ্চ স্বরে ক্রন্দন ও বিলাপ ধ্বনি উচ্চকিত হতে থাকে। বাজার ও দোকান পাট সমূহ বন্ধ হয়ে যায়। বনী হাশেম, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ আমীর, শহরের কারী ও বিচারপতিগণ, কবি সাহিত্যিক এবং সর্বস্তরের মানুষ ইমাম হাসান আল-আস্কারীর (আ) পবিত্র লাশের শেষকৃত্য ও তাশয়ী' অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য দলে দলে উপস্থিত হতে থাকে। সামাররা নগরী ঐ দিন ইমামের (আ) শোকে যেন কিয়ামতের রূপ পরিগ্রহ করেছিল । আর ইমাম হাসান আল-আসকারী একমাত্র পুত্রসন্তান মুহাম্মদকে (আ.) তাঁর উত্তরাধিকারী ও উত্তরসূরি হিসেবে রেখে যান (যিনি আহলুল বাইতের আ দ্বাদশ ও সর্বশেষ ইমাম এবং প্রতিশ্রুত মাহদী) (দ্রঃ আয়াতুল্লাহ জাফার সুবহানী প্রণীত সীরেয়ে পীশভয়ন, পৃ: ৬৩২, শেখ মুমিন ইবনে হাসান মুমিন আশ-শাবলাঞ্জী প্রণীত নূরুল আবসার ফী মানাকিবি আলি বাইতিন নাবীয়িল মুখতার, পৃ : ৩৪১)  । ইমাম হাসান আল -আসকরীকে সামররায়ে যে বাড়ীতে তাঁর পিতা দশম ইমাম আলী ইবনে মুহাম্মাদ আন-নাক্বী আল-হাদীকে (আর) দাফন করা হয়েছিল সেখানে দাফন করা হয় ।

আমরা এই ইমামের শাহাদাত উপলক্ষে সবাইকে জানাই আন্তরিক শোক ও তাসলিয়ত ।

আমরা নীচে ইমাম হাসান আল -আস্কারীর (আ.) কতিপয় অমিয় বাণীর তর্জমা পেশ করলাম।#M